ডিবি হারুন ছাড়াও ছিল তৌহিদ আফ্রিদির আরেক গডফাদার

ঢাকার আলো-ঝলমলে ক্যামেরার সামনে নিজেকে ‘গুড বয়’ সাজালেও, বাস্তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ছিলেন এক ‘ব্যাড বয়’— অভিযোগ এমনটাই ভুক্তভোগীদের। সরল-নিরীহ ইমেজের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ভয়ঙ্কর এক অপরাধ সিন্ডিকেট।

বাবার মালিকানাধীন মাই টিভি এবং প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় আফরিদ গড়ে তোলেন ব্ল্যাকমেইল, নারী নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও গুম-খুনের দীর্ঘ অপরাধ সাম্রাজ্য। ভুক্তভোগীরা তার সিন্ডিকেটকে ডাকত “গিভ অ্যান্ড টেক সিন্ডিকেট”— যেখানে সম্পর্ক নির্ভর করত কারা সুবিধা পাচ্ছে আর কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার উপর।

তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত অর্ধশত তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছিলেন আফরিদ। প্রতারণা, নির্যাতন আর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন তারা। সিআইডির হাতে তার জব্দকৃত মোবাইল, ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্কে লুকিয়ে আছে এসব অপরাধের অসংখ্য আলামত।

অভিযোগ আছে, আফ্রিদিদের ক্ষমতার মূল ভরসা ছিলেন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং কয়েকজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ অন্যতম।
আফরিদ নাকি তাদের সরবরাহ করতেন সুন্দরী নারী, আর বিনিময়ে পেতেন আশ্রয় ও প্রভাব। তাদের শেল্টারে বিনা ঝামেলায় চালাতেন মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— আফরিদের নির্দেশেই ডিবি অফিসে মানুষকে তলব করা হতো, চালানো হতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও তার পরিবারের নামে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে আফরিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নানা তথ্য।

আফ্রিদিদের ব্যক্তিগত জীবনের কেলেঙ্কারিও সামনে এসেছে। বিশেষ করে মুনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তার বাসায় ঘন ঘন যাতায়াতের প্রমাণ মেলে। যা এখন তদন্তকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ের আড়ালে আফ্রিদি ছিলেন এক প্রতারক ও অপরাধ সিন্ডিকেটের মস্তিষ্ক। গ্রেফতারের পর একে একে মুখ খুলছেন ভুক্তভোগীরা, ভেঙে পড়ছে তার প্রভাবের দেয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ার ‘গুড বয়’ ইমেজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ‘ব্যাড বয়’ এখন বাংলাদেশের অপরাধ ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায়ের নায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *