
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে আটক হওয়া সবার সসম্মানে মুক্তি দাবি করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের নিজ বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তিনি। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চ ৭১–এর অনুষ্ঠানে শ্রোতা ও বক্তা—উভয় দিক থেকেই
লোকজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। তাদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হোক।’ একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের কাছে দাবি জানান তিনি।
মব সৃষ্টি করে আলোচনা বানচাল করার অভিযোগ তুলে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কারও সভা-সমাবেশ বানচাল করার সাংবিধানিক বা আইনানুগ কোনো সুযোগ নেই।’
২৪ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সেই বিজয়কে স্বাধীনতার কাছাকাছি মনে করি। কিন্তু সেই বিজয়ী বীরদের কার্যকলাপে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমি ভেবেছিলাম এই বিজয় হাজার বছর স্থায়ী হবে। অথচ এক বছরের মধ্যেই তা ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে—এটা আমরা কল্পনা করিনি।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে সুন্দরভাবে নিরপেক্ষভাবে ভোট অনুষ্ঠান। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, সেই সংস্কার আনা দরকার। অনির্বাচিত কারও পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়, উচিতও নয়। সেটা মানুষ মেনে নেবে না।’
মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যের প্রচেষ্টা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘প্রথমে কাদেরিয়া বাহিনীর একটি ঐক্যের চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস, আমরা প্রভূত সাফল্য অর্জন করব। আওয়ামী লীগের, বিএনপির বা জাতীয় পার্টির—এভাবে ভাগ না করে সব মুক্তিযোদ্ধাই বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা। এই পরিচয় ও চেতনা থাকা দরকার।’